মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
বিএনপির জমা দেয়া আয়-ব্যয়ের হিসাবে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগের খরচ দেখানো হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে নির্বাচন কমিশন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেয়া এ সংক্রান্ত একটি চিঠি নিয়ে বৃহস্পতিবার সভায় বসছে কমিশন।
আইন অনুযায়ী, নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলকে প্রতিবছর আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হয় নির্বাচন কমিশনে। পরপর ৩ বছর তা না দিলে বাতিল হয় নিবন্ধন। এ বিধান চালুর পর অন্তত ৩৯টি দল দিয়েছে অডিট রিপোর্ট।
এদিকে বিএনপি আবারো অস্বীকার করে বলেছে, তারা লবিস্ট নিয়োগ করেনি। এ অবস্থায় খরচের হিসাবের বিষয়টি আয়-ব্যয়ে আসার প্রশ্নই আসে না। সম্প্রতি বিদেশে লবিস্ট দেয়া প্রশ্নে উত্তাপ এসেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। সংসদের বাইরে-ভেতর চলছে তর্ক-বিতর্ক।
সরকার বলছে, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মে পর্যন্ত লবিস্টের পেছনে কোটি কোটি টাকা ঢেলেছে বিএনপি। এ টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনে দেওয়া দলটির আয়-ব্যয়ের হিসাবে দেখানো হয়নি। এরই মধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশন এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের আজকের সভায় হবে বিএনপির লবিস্ট নিয়োগ নিয়ে আলোচনা। আর এ কাজে ব্যয় সংক্রান্ত কিছু তথ্য উপাত্ত ইসিকে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সে কারণেই সামনে আসে বিষয়টি। এখন সভায় আলাপ-আলোচনার প্রেক্ষিতেই নির্ধারণ হবে করণীয়।
২০২০ সালে বিএনপি আয় দেখিয়েছে এক কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে এক কোটি ৭৪ লাখ ৫২ হাজার ৫১৩ টাকা।
এদিকে ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, লবিস্টের পেছনে টাকা ব্যয়ের কোনো খাত উল্লেখ করেনি বিএনপি। এই ১০ বছরের অনুদান, ফরম বিক্রি, সদস্য ফি বাবদ যা আয় করেছে দলটি, তা খরচ করা হয়েছে কর্মচারীদের বেতন, নির্বাচনী ব্যয়, জাতীয় সম্মেলন বাবদ।